শ্রী হনুমান আরতি বাংলায় | Shri Hanuman Aarti in Bengali Lyrics, Meaning & Download PDF

শ্রী হনুমান আরতি বাংলায় (Shri Hanuman Aarti in Bengali) সম্পূর্ণ পাঠ এবং পংক্তিওয়ার বাংলা অর্থ সহ পড়ুন। গোস্বামী তুলসীদাস জী রচিত আরতি 'আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী' (Shri Hanuman Aarti) এর সম্পূর্ণ লিরিক্স, পূজা পদ্ধতি, অলৌকিক সুফল এবং বিনামূল্যে PDF ডাউনলোড।

শ্রী হনুমান আরতি বাংলায় | Shri Hanuman Aarti in Bengali

॥ শ্রী হনুমান আরতি (আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী) ॥
আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী। দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।।
জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ। রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।।
অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী। সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।।
দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে। লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।।
লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই। জাত পবনসুত বার ন লাই।।
লঙ্কা জারী অসুর সংহারে। সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।।
লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে। আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।।
পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে। অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।।
বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে। ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।।
সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে। জয় জয় জয় হনুমান উচারে।।
কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী। আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।।
লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী। তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।।
জো হনুমানজী কী আরতি গাবৈ। বসী বৈকুণ্ঠ পরমপদ পাবৈ।।

॥ ইতি শ্রী হনুমান আরতি সম্পূর্ণম্ ॥
📄 PDF
Text Size

শ্রী হনুমান আরতি অডিও / ভিডিও (Listen & Watch)

শ্রী হনুমান আরতি পংক্তিওয়ার বাংলা অর্থ | Meaning in Bengali

ক্র. আরতির পংক্তি (Shri Hanuman Aarti) সহজ বাংলা অর্থ ও ব্যাখ্যা
আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী।
দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।।
ভগবান শ্রীরামের কলা-স্বরূপ এবং দুষ্টদের সংহারকারী শিশু হনুমান জীর আরতি করুন।
জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ।
রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।।
যাঁর অপার বল ও পরাক্রমে বিশাল পর্বতও কেঁপে ওঠে এবং যাঁর নিকটে এলে সমস্ত রোগ, দোষ ও নেতিবাচক শক্তি দূরে পালিয়ে যায়।
অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী।
সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।।
মা অঞ্জনীর পুত্র হনুমান জী অত্যন্ত বলশালী। তিনি তাঁর ভক্ত ও সন্তানদের কষ্টে সর্বদা সাহায্য করেন।
দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে।
লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।।
যখন ভগবান শ্রীরাম তাঁকে দায়িত্ব (বীড়া) দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কা দহন করেন এবং মা সীতার খোঁজ নিয়ে আসেন।
লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই।
জাত পবনসুত বার ন লাই।।
লঙ্কার মতো শক্তিশালী দুর্গ এবং সমুদ্রের মতো গভীর পরিখা থাকা সত্ত্বেও পবনপুত্র হনুমান জীর সেখানে পৌঁছাতে সামান্যতম বিলম্ব হয়নি।
লঙ্কা জারী অসুর সংহারে।
সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।।
তিনি সমগ্র লঙ্কা ভস্ম করে দেন, দুষ্ট অসুরদের সংহার করেন এবং ভগবান শ্রী সীতারাম জীর সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করেন।
লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে।
আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।।
যুদ্ধে লক্ষ্মণ জী মূর্ছিত হয়ে পড়লে হনুমান জী দ্রোণাচল পর্বত থেকে সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে এসে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে।
অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।।
যখন অহিরাবণ রাম-লক্ষ্মণকে পাতাল পুরীতে নিয়ে যায়, তখন হনুমান জী পাতালে প্রবেশ করে যমদূতদের পরাজিত করেন এবং অহিরাবণকে বধ করেন।
বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে।
ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।।
হনুমান জী তাঁর বাম বাহু দিয়ে দুষ্ট অসুর দলকে বিনাশ করেন এবং দক্ষিণ বাহু দিয়ে সাধু ও ভক্তদের উদ্ধার করেন।
১০ সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে।
জয় জয় জয় হনুমান উচারে।।
দেবতা, মানব এবং মুনিগণ সকলে মিলে হনুমান জীর আরতি করেন এবং 'জয় জয় জয় হনুমান' ধ্বনি দেন।
১১ কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী।
আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।।
সোনার থালে কর্পূরের উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বয়ং মা অঞ্জনা তাঁর মহান পুত্র হনুমান জীর আরতি করছেন।
১২ লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী।
তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।।
ভগবান শ্রীরামের কৃপায় হনুমান জী লঙ্কা ধ্বংস করেছিলেন। গোস্বামী তুলসীদাস জী প্রভু হনুমান জীর এই মহিমা গান করেন।
১৩ জো হনুমানজী কী আরতি গাবৈ।
বসী বৈকুণ্ঠ পরমপদ পাবৈ।।
যিনি ভক্তিভরে হনুমান জীর এই আরতি গান করেন, তিনি বৈকুণ্ঠ ধামে বাস করেন এবং পরমপদ (মুক্তি) লাভ করেন।

শ্রী হনুমান আরতির ইতিহাস ও গুরুত্ব

শ্রী হনুমান জীর এই মহিমান্বিত আরতি 'আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী' এর রচনা করেছিলেন মহান সন্ত গোস্বামী তুলসীদাস জী। তুলসীদাস জী শ্রীরাম ও হনুমান জীর অনন্ত মহিমা গান করেছেন।

এই আরতিতে হনুমান জীর বীরত্বপূর্ণ লীলা—যেমন লঙ্কা দহন, সঞ্জীবনী বুটি আনা, অহিরাবণ বধ এবং শ্রীরামের কাজ সুসম্পন্ন করার কথা পরম ভক্তিভরে বর্ণিত হয়েছে। ভক্তিভরে হনুমান জীর আরতি পাঠ করলে জীবনের সকল ভয়, রোগ, শত্রু এবং দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়।

শ্রী হনুমান আরতির অলৌকিক সুফল | Benefits of Hanuman Aarti

১) ভয় ও সংকট মুক্তি

নিয়মিত আরতি পাঠে ভূত-প্রেত, ভয় ও সকল নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে।

২) রোগ ও শারীরিক কষ্ট নিরাময়

হনুমান জীর কৃপায় কঠিন ব্যাধি, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতা দূর হয়।

৩) আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন

জীবনের বাধা-বিঘ্ন দূর হয়ে আটকে থাকা ও কঠিন কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।

৪) সন্তান রক্ষা ও সুখ শান্তি

হনুমান জী সন্তানদের রক্ষা করেন এবং পরিবারে সুখ-শান্তি প্রদান করেন।

৫) বল ও শক্তি লাভ

সাধক শারীরিক শক্তি, মানসিক শান্তি, বুদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস লাভ করেন।

৬) পরমপদ বৈকুণ্ঠ লাভ

আরতির শেষে বলা হয়েছে, যিনি এটি ভক্তিভরে পাঠ করেন তিনি বৈকুণ্ঠ ধামে স্থান পান।

PDF ডাউনলোড | Download PDF

শ্রী হনুমান আরতি (Shri Hanuman Aarti) সম্পূর্ণ বাংলা PDF বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন।

Download PDF (Bengali)

শ্রী হনুমান আরতি পাঠের নিয়ম ও পূজা পদ্ধতি | Rules

হনুমান জীর আরতি করার সময় নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত:

  • পবিত্রতা: স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ পোশাক পরিধান করুন।
  • প্রদীপ: তামার বা পিতলের প্রদীপে কর্পূর অথবা চামেলির তেলের সলতে জ্বালান।
  • আরতির প্রদক্ষিণ: হনুমান জীর চরণে ৪ বার, নাভিতে ২ বার, মুখে ১ বার এবং সমগ্র শরীরে ৭ বার প্রদীপ ঘোরান।
  • সময়: মঙ্গলবার ও শনিবার সকালে এবং সন্ধ্যায় আরতি করা অত্যন্ত ফলদায়ী।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. শ্রী হনুমান আরতি 'আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী' কে রচনা করেছেন?

উ. শ্রী হনুমান জীর বিখ্যাত আরতি 'আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী' এর রচনা করেছেন সন্ত শিরোমণি গোস্বামী তুলসীদাস জী।

প্র. হনুমান জীর আরতি করার সবচেয়ে সঠিক সময় কোনটি?

উ. প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় প্রদীপ বা কর্পূর জ্বালিয়ে হনুমান জীর আরতি করা যায়। মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ ফলপ্রসূ।

প্র. হনুমান আরতি পাঠ করলে কী লাভ হয়?

উ. সকল প্রকার ভয়, ব্যাধি, নেতিবাচক শক্তি এবং শত্রুর বিনাশ ঘটে এবং মনের সকল সৎ ইচ্ছা পূরণ হয়।

Select Language