হনুমান চালিসা বাংলা অনুবাদ
সম্পূর্ণ বাংলাতে পাঠ করুন এবং এর গভীর অর্থ, ইতিহাস ও উপকারিতা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জানুন।
| দোহা |
| শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি । বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ॥ |
| বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার । বল বুদ্ধি বিদ্য়া দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥ |
| হনুমান চালিশা বাংলা ধ্যানম্ |
| গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ । রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥ |
| যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ । ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥ |
| চৌপাই |
| জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর । জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর ॥ (১) |
| রামদূত অতুলিত বলধামা । অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ॥ (২) |
| মহাবীর বিক্রম বজরংগী । কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ॥ (৩) |
| কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা । কানন কুংডল কুংচিত কেশা ॥ (৪) |
| হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ । কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ॥ (৫) |
| শংকর সুবন কেসরী নংদন । তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ॥ (৬) |
| বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর । রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ (৭) |
| প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া । রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ (৮) |
| সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা । বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥ (৯) |
| ভীম রূপধরি অসুর সংহারে । রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ॥ (১০) |
| লায় সংজীবন লখন জিয়ায়ে । শ্রী রঘুবীর হরষি উরলায়ে ॥ (১১) |
| রঘুপতি কীন্হী বহুত বডায়ী (ঈ) । তুম মম প্রিয় ভরত সম ভায়ী ॥ (১২) |
| সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ । অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ॥ (১৩) |
| সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা । নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ (১৪) |
| যম কুবের দিগপাল জহাং তে । কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ (১৫) |
| তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা । রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥ (১৬) |
| তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা । লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ (১৭) |
| যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ । লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ (১৮) |
| প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী । জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী ॥ (১৯) |
| দুর্গম কাজ জগত কে জেতে । সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ॥ (২০) |
| রাম দুআরে তুম রখবারে । হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ (২১) |
| সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা । তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ॥ (২২) |
| আপন তেজ সম্হারো আপৈ । তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ (২৩) |
| ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ । মহবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ (২৪) |
| নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা । জপত নিরংতর হনুমত বীরা ॥ (২৫) |
| সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ । মন ক্রম বচন ধ্য়ান জো লাবৈ ॥ (২৬) |
| সব পর রাম তপস্বী রাজা । তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ (২৭) |
| ঔর মনোরথ জো কোয়ি লাবৈ । তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ (২৮) |
| চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা । হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ (২৯) |
| সাধু সংত কে তুম রখবারে । অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ (৩০) |
| অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা । অস বর দীন্হ জানকী মাতা ॥ (৩১) |
| রাম রসাযন তুম্হারে পাসা । সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ (৩২) |
| তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ । জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ (৩৩) |
| অংত কাল রঘুপতি পুরজায়ী । জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী ॥ (৩৪) |
| ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী । হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী ॥ (৩৫) |
| সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা । জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ (৩৬) |
| জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসায়ী । কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥ (৩৭) |
| যহ শত বার পাঠ কর কোয়ী । ছূটহি বংদি মহা সুখ হোয়ী ॥ (৩৮) |
| জো যহ পডৈ হনুমান চালীসা । হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ (৩৯) |
| তুলসীদাস সদা হরি চেরা । কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ (৪০) |
| দোহা |
| পবন তনয় সংকট হরণ - মংগল মূরতি রূপ্ । রাম লখন সীতা সহিত - হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥ |
হনুমান চালিশা বাংলা অনুবাদ (সম্পূর্ণ)
| # | চৌপাঈ / দোহা (Verse) | বাংলা অনুবাদ (Meaning) |
|---|---|---|
| দোহা | শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি । বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ॥ |
আমার মনের রূপ আয়নাকে শ্রী গুরুর চরণ কমলের ধূলিকণা দিয়ে পরিষ্কার করে শ্রীরামচন্দ্রের নির্মল যশের বর্ণনা করছি, যা ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ প্রদান করে। |
| দোহা | বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার । বল বুদ্ধি বিদ্য়া দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥ |
নিজেকে বুদ্ধিহীন ভেবে আমি পবনপুত্র হনুমানকে স্মরণ করি। আমাকে শক্তি, বুদ্ধি এবং বিদ্যা প্রদান করে আমার সমস্ত কষ্ট ও বিকার দূর করুন। |
| ধ্যানম্ | গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ । রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥ যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ । ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥ |
সমুদ্রকে যিনি গোষ্পদের (গরুর খুরের ছাপ) মতো সহজে লঙ্ঘন করেছেন, রাক্ষসদের যিনি মশকের মতো তুচ্ছ করেছেন, রামায়ণ রূপী মহামালার অন্যতম রত্ন সেই পবনপুত্র হনুমানকে আমি বন্দনা করি। যেখানে যেখানে রঘুনাথের কীর্তন হয়, সেখানে সেখানেই মস্তকে কৃতাঞ্জলি এবং প্রেমাশ্রুপূর্ণ লোচনে বিরাজমান থাকেন, সেই রাক্ষসান্তক মারুতিকে প্রণাম করি। |
| ১ | জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর । জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর ॥ | হে জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমান, আপনার জয় হোক। তিন জগতের জাগরণকারী বানর বীরের জয় হোক। |
| ২ | রামদূত অতুলিত বলধামা । অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ॥ | আপনি রামের দূত, অতুলনীয় শক্তির অধিকারী। আপনি অঞ্জনীর পুত্র এবং পবন পুত্র নামে খ্যাত। |
| ৩ | মহাবীর বিক্রম বজরংগী । কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ॥ | হে মহাবীর, আপনার দেহ বজ্রের ন্যায় কঠোর। আপনি কুবুদ্ধি দূর করে সুবুদ্ধির সঙ্গ প্রদান করেন। |
| ৪ | কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা । কানন কুংডল কুংচিত কেশা ॥ | আপনার গায়ের রং সোনার মতো উজ্জ্বল এবং সুন্দর বেশভূষা। আপনার কানে কুণ্ডল এবং চুল কোঁকড়ানো। |
| ৫ | হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ । কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ॥ | আপনার হাতে বজ্র এবং ধ্বজা বিরাজমান। কাঁধে সুশোভিত রয়েছে মুঞ্জ ঘাসের পৈতে। |
| ৬ | শংকর সুবন কেসরী নংদন । তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ॥ | হে শিবের অবতার, কেশরীর আনন্দবর্ধন। আপনার মহিমা এবং প্রতাপ সমগ্র আরাধনা করে। |
| ৭ | বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর । রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ | আপনি পরম বিদ্বান, গুণবান এবং অত্যন্ত চতুর। আপনি সর্বদা ভগবান রামের কার্য সম্পাদনে ব্যাকুল। |
| ৮ | প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া । রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ | প্রভুর চরিত্র শুনতে আপনি রসে আপ্লুত হন। রাম, লক্ষণ এবং সীতা সর্বদা আপনার মনে বাস করেন। |
| ৯ | সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা । বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥ | আপনি সীতা মায়ের সামনে ক্ষুদ্র রূপ ধারণ করেছিলেন, এবং আবার বিকট রূপ ধারণ করে লঙ্কা জ্বালিয়েছিলেন। |
| ১০ | ভীম রূপধরি অসুর সংহারে । রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ॥ | আপনি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে অসুরদের বিনাশ করেছেন এবং ভগবান রামচন্দ্রের সকল কার্য সম্পন্ন করেছেন। |
| ১১ | লায় সংজীবন লখন জিয়ায়ে । শ্রী রঘুবীর হরষি উরলায়ে ॥ | সঞ্জীবনী বুটি এনে আপনি লক্ষ্মণের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, যা দেখে শ্রীরামচন্দ্র আনন্দে আপনাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। |
| ১২ | রঘুপতি কীন্হী বহুত বডায়ী (ঈ) । তুম মম প্রিয় ভরত সম ভায়ী ॥ | ভগবান শ্রীরাম আপনার অনেক প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, "তুমি আমার ভাই ভরতের মতোই অত্যন্ত প্রিয়।" |
| ১৩ | সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ । অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ॥ | "সহস্র ফণাযুক্ত অনন্তনাগ তোমার যশের গান করেন," একথা বলে শ্রীরাম আপনাকে আলিঙ্গন করেছিলেন। |
| ১৪ | সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা । নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ | সনকাদি ঋষি, ব্রহ্মা আদি দেবতাগণ, নারদ, সরস্বতী এবং শেষনাগও আপনার মহিমা গেয়ে থাকেন। |
| ১৫ | যম কুবের দিগপাল জহাং তে । কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ | যম, কুবের এবং দিগ্পালরা যেখানে আপনার মহিমা বর্ণনায় হার মানেন, সেখানে সাধারণ কবি ও পণ্ডিতরা কী বর্ণনা করবেন? |
| ১৬ | তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা । রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥ | আপনি শ্রীরামের সাথে মিলিয়ে দিয়ে সুগ্রীবের বিরাট উপকার করেছিলেন, যার ফলে তিনি রাজপদ লাভ করেছিলেন। |
| ১৭ | তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা । লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ | আপনার পরামর্শ বিভীষণ মেনে নিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি লঙ্কার রাজা হন—এ জগৎ সর্বজনবিদিত। |
| ১৮ | যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ । লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ | আপনি হাজারো যোজন দূরে অবস্থিত সূর্যকে সুমিষ্ট ফল মনে করে অনায়াসে গ্রাস করেছিলেন। |
| ১৯ | প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী । জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী ॥ | প্রভু রামের আংটি মুখে নিয়ে আপনি অনন্ত সাগর পার হয়েছিলেন, আপনার মতো বীরের জন্য এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। |
| ২০ | দুর্গম কাজ জগত কে জেতে । সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ॥ | জগতের সকল দুর্গম কার্য আপনার কৃপায় খুব সহজেই সুগম হয়ে যায়। |
| ২১ | রাম দুআরে তুম রখবারে । হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ | আপনি ভগবান রামের দরবারের পাহারাদার। আপনার আজ্ঞা ব্যতিরেকে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। |
| ২২ | সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা । তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ॥ | যে আপনার শরণ নেয়, সে সকল সুখ লাভ করে। আপনি যখন রক্ষক, তখন ভয় কিসের? |
| ২৩ | আপন তেজ সম্হারো আপৈ । তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ | আপনার অপরিসীম তেজ একমাত্র আপনিই সামলাতে পারেন। আপনার এক হুংকারে তিন লোক কেঁপে ওঠে। |
| ২৪ | ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ । মহবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ | হে মহাবীর, আপনার নাম উচ্চারণ করলে ভূত বা পিশাচ ধারে কাছে আসতে পারে না। |
| ২৫ | নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা । জপত নিরংতর হনুমত বীরা ॥ | হে বীর হনুমান, আপনার নাম নিরন্তর জপ করলে সমস্ত রোগ নাশ হয় এবং সমস্ত পীড়া দূর হয়। |
| ২৬ | সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ । মন ক্রম বচন ধ্য়ান জো লাবৈ ॥ | যিনি মন, বচন ও কর্ম দ্বারা ধ্যানে মগ্ন হন, হনুমান তাকে সকল সংকট থেকে উদ্ধার করেন। |
| ২৭ | সব পর রাম তপস্বী রাজা । তিন কে কাজ সকল তুম সাজা ॥ | তপস্বী রাজা রামচন্দ্র সবার উপরে। আপনি তাঁর সকল কার্য অত্যন্ত নিপুণতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। |
| ২৮ | ঔর মনোরথ জো কোয়ি লাবৈ । তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ | যে কেউ আপনার কাছে সৎ মনোরথ নিয়ে আসে, সে জীবনে অনন্ত ফল প্রাপ্ত হয়। |
| ২৯ | চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা । হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ | চার যুগ ধরেই আপনার মহিমা বিরাজমান। আপনার আলো ও প্রসিদ্ধিতে সারা জগৎ আলোকিত। |
| ৩০ | সাধু সংত কে তুম রখবারে । অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ | আপনি সাধু ও সজ্জনদের রক্ষাকারী, অসুরদের বিনাশকারী এবং ভগবান রামের পরম প্রিয়। |
| ৩১ | অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা । অস বর দীন্হ জানকী মাতা ॥ | মাতাজী সীতা আপনাকে এই বর দিয়েছেন যে, আপনি যে কাউকে অষ্টসিদ্ধি এবং নবনিধি প্রদান করতে পারবেন। |
| ৩২ | রাম রসাযন তুম্হারে পাসা । সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ | রামভক্তির অমৃত সর্বদা আপনার কাছে রয়েছে। আপনি চিরকাল রঘুপতির দাস হয়ে বিরাজমান। |
| ৩৩ | তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ । জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ | আপনার ভজন করলে রামকে পাওয়া যায় এবং জন্ম-জন্মের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাওয়া যায়। |
| ৩৪ | অংত কাল রঘুপতি পুরজায়ী । জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী ॥ | জীবনান্তে ভক্ত ভগবান রঘুপতির ধামে গমন করে এবং পুনর্জন্ম হলে সে হরিভক্ত রূপেই পরিচিত হয়। |
| ৩৫ | ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী । হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী ॥ | অন্য কোনো দেবতার কথা ভাবার প্রয়োজন নেই। হনুমানের আরাধনা থেকেই সমস্ত সুখ প্রাপ্তি সম্ভব। |
| ৩৬ | সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা । জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ | যিনি বলবীর হনুমানকে স্মরণ করেন, তার সকল সংকট কেটে যায় এবং সমস্ত পীড়া দূরীভূত হয়। |
| ৩৭ | জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসায়ী । কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥ | হে হনুমান গোঁসাই, আপনার জয় হোক, জয় হোক! আমাকে গুরুর মতো আপনার কৃপা প্রদান করুন। |
| ৩৮ | যহ শত বার পাঠ কর কোয়ী । ছূটহি বংদি মহা সুখ হোয়ী ॥ | যিনি এটি শতবার পাঠ করবেন, তিনি ইহজগতের ভববন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মহাশান্তি লাভ করবেন। |
| ৩৯ | জো যহ পডৈ হনুমান চালীসা । হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ | যিনি এই হনুমান চালিশা পাঠ করবেন, তিনি সিদ্ধি লাভ করবেন, ভগবান শিব স্বয়ং এর সাক্ষী। |
| ৪০ | তুলসীদাস সদা হরি চেরা । কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ | তুলসীদাস সর্বদা শ্রীহরির দাস। হে নাথ, আমার হৃদয়ে আপনি চিরকাল অবস্থান করুন। |
| দোহা | পবন তনয় সংকট হরণ - মংগল মূরতি রূপ্ । রাম লখন সীতা সহিত - হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥ |
হে পবন পুত্র, সংকটের বিনাশকারী, মঙ্গলমূর্তি! আপনি শ্রীরাম, লক্ষ্মণ এবং মাতা সীতার সাথে সর্বদা আমার হৃদয়ে বাস করুন। |
হনুমান চালিশার ইতিহাস | History
হিন্দু ইতিহাস অনুযায়ী কথিত রয়েছে, তুলসীদাস কারাগার থেকেই ৪০ দিন ধরে হনুমান চালিশা গেয়েছিলেন। আর এটি মন্ত্রের ৪০টি শ্লোককেই নির্দেশ করে। পরিশেষে আকবরের দরবারে বানরের একটি বাহিনী নিয়মিত জীবনকে ব্যাহত করার জন্য উপস্থিত হয়েছিল। এর ফলে অবশেষে তুলসীদাস মুক্তি পেয়েছিলেন। এই মন্ত্রের শ্লোকগুলি ভগবান রামের প্রতি হনুমানের অগাধ ভক্তি আর আত্মসমর্পণের প্রকাশ ঘটায়।
পাঠের নিয়ম ও সময় | Rules & Time
হনুমান চালিশা পড়ার কোনওরকম নির্দিষ্ট কঠিন নিয়ম নেই, তবে ভক্তদের কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে হয়:
- ভক্তি: প্রতিটি শ্লোকের তাৎপর্যের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: পাঠ করার স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
- পবিত্রতা: স্নান করে বা হাত পা ধুয়ে পাঠ করা বাঞ্ছনীয়।
- নৈবেদ্য: ভক্তি ও শ্রদ্ধার চিহ্ন হিসেবে হনুমানকে ফুল ও মিষ্টি অর্পণ করতে পারেন।
সময়: হনুমান চালিশা আপনি যে কোনও দিন পড়তে পারেন। তবে মঙ্গলবার বা শনিবার পাঠ করলে অশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
হনুমান চালিশা পাঠের উপকারিতা | Benefits
১) বাধা অতিক্রম করা
নিয়মিত পাঠ করলে জীবনে আসা যে কোনও বাধা ও অসুবিধাগুলি খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়।
২) স্বাস্থ্যের উন্নতি
নিয়মিত পাঠ শরীর ও মনের উন্নতি ঘটায় এবং স্বাভাবিক জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে।
৩) সুরক্ষা এবং আশীর্বাদ
নেতিবাচক শক্তি এবং অশুভ প্রভার দূর হয় এবং সাহস ও আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়।
৪) আধ্যাত্মিক উন্নতি
নিয়মিত পাঠে মহাশক্তির সঙ্গে ঐশ্বরিক সংযোগ স্থাপন হয় এবং নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়।
৫) ধন ও সমৃদ্ধি
এটি জীবনে ধন সম্পদ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা আকর্ষণ করে এবং দারিদ্র্য দূর করে।
৬) মনোযোগ বৃদ্ধি
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী; এটি একাগ্রতা, জ্ঞান এবং মনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।
PDF ডাউনলোড | FAQs
হনুমান চালিশার পিডিএফ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন।
Download PDF (Bengali)হনুমান চালিশা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্তর (Questions)
হনুমান চালিশা পাঠের সঠিক সময় কোনটি?
আপনি যে কোনও সময় পড়তে পারেন। তবে এটি মঙ্গলবার বা শনিবার পাঠ করলে অশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়。
হনুমান চালিশা কে রচনা করেছেন?
এটি ষোড়শ শতাব্দীর কবি এবং সাধু গোস্বামী তুলসীদাস আওয়াধি ভাষায় রচনা করেছিলেন।
মহিলারা কি হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন?
হ্যাঁ, মহিলারা অবশ্যই হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন। ভগবানের প্রতি ভক্তির কোনো লিঙ্গ বা বিধিনিষেধ নেই।
হনুমান চালিশা কতবার পাঠ করা উচিত?
চালিশার ৩৮ নম্বর শ্লোক অনুযায়ী ১০০ বার পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ী, তবে শুদ্ধ ভক্তি সহকারে প্রতিদিন ১, ৩ বা ৭ বার পাঠ করলেও অশেষ কৃপা লাভ হয়।
Hanuman